ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ, যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য— উভয় স্তরেই বহুদলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই ব্যবস্থায় জাতীয় ও আঞ্চলিক দলগুলো নিজ নিজ মতাদর্শ ও কর্মসূচি নিয়ে কাজ করে। তেমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংগঠন হলো সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলটি সাধারণত তৃণমূল কংগ্রেস নামে পরিচিত। মূলত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজনীতিতে দলটির শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে, তবে এটি ভারতের অন্যান্য অংশেও তার কার্যক্রম ছড়িয়েছে।
১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই দলটি গঠিত হয়। দলের নামের মধ্যেই এর চরিত্রের ইঙ্গিত রয়েছে— 'তৃণমূল' শব্দটি নিচুতলার মানুষ বা গ্রাসরুটের প্রতিনিধিত্ব করে, এবং 'সর্বভারতীয়' উপাধি দেশজুড়ে এর কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি নির্দেশ করে। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি একটি আঞ্চলিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও পরবর্তীকালে এটি জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
দলটি ভারতের নির্বাচন কমিশনে একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে তালিকাভুক্ত। রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। মূল ভিত্তি পশ্চিমবঙ্গে হলেও, দলটি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভা এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাসহ বিভিন্ন নির্বাচনে দলটি প্রার্থী দিয়ে থাকে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা দলটির সংগঠনিক কাঠামো ও জনসংযোগ কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
নীতিগত দিক থেকে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। দলটি কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন জনমুখী কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলে। ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে রাজ্যের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি দলটির রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ। সংগঠন হিসেবে দলটির বিভিন্ন জেলা ও স্থানীয় কমিটি রয়েছে। ছাত্র, যুব ও নারী সংগঠনের মাধ্যমে দলটি বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করে।
যেকোনো রাজনৈতিক দলের মতো এর কার্যক্রম ও গতিপ্রকৃতি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং নির্বাচনী রাজনীতির প্রভাবে গড়ে ওঠে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আঞ্চলিক চাহিদা ও জাতীয় রাজনীতির সমন্বয় ঘটানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের দলগুলো ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় গণতন্ত্রে বহুদলীয় ব্যবস্থার আওতায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস একটি স্বতন্ত্র পরিচয় নিয়ে কাজ করছে। রাজনীতি সচেতন নাগরিকদের জন্য দলটির ইতিহাস ও বর্তমান ভূমিকা বোঝা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বুঝতে সাহায্য করে। সাধারণ মানুষের জন্য এই দলের কর্মকাণ্ড ও ঘোষিত নীতি পর্যবেক্ষণ করা নাগরিক দায়িত্বের অংশ হতে পারে।
সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস: উৎপত্তি এবং রাজনৈতিক ভূমিকা
Source: HotArticle
Original link: https://www.hotarticle24.com/2p6ol9sn